হাজীদের জন্য সৌদি সরকার এর কি কি জরুরি কাজ করা উচিৎ
হাজীদের কষ্ট লাঘবে সৌদি সরকারের কি কি করা উচিৎ ?
জামারা থেকে কাবা ঘর পর্যন্ত সমগ্র রাস্তার উপরে শেড তৈরি করা যাতে হাজিরা পাথর নিক্ষেপ করে আবার কাবা ঘর তাওয়াফ ও সাইয়ি করে মিনায় ফিরে যেতে পারে রাত্রি যাপনের জন্য। ঐদিন হাজীদের সবচেয়ে কষ্টের দিন। ঐদিন নিচের কাজ গুলি করতে হয় :
হজের দশম দিনে (১০ই জিলহাজ বা ইয়াউমুন নাহার / কোরবানির দিন) পরপর ৫টি প্রধান কাজ সম্পন্ন করতে হয়:
১. কঙ্কর নিক্ষেপ (রমী): সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে মিনায় অবস্থিত বড় জামরায় (জামরাতুল আকাবা) ৭টি পাথর বা কঙ্কর নিক্ষেপ করা। প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলা।
২. কোরবানি করা (নাহর): পাথর মারার পর নিজের ওয়াজিব কোরবানি সম্পন্ন করা (তামাত্তু বা ক্বিরান হজ পালনকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক, তবে ইফরাদ হজ পালনকারীদের জন্য নফল)।
৩. চুল মুণ্ডন বা ছোট করা (হলক বা কসর): কোরবানি শেষ করার পর পুরুষরা পুরো মাথা মুণ্ডন করবেন অথবা মাথার সব দিকের চুল সমানভাবে ছোট করবেন। নারীরা চুলের অগ্রভাগ আঙুলের এক কর (প্রায় এক ইঞ্চি) পরিমাণ কাটবেন।
নোট: চুল কাটার পরই ইহরামের প্রাথমিক বিধিনিষেধ উঠে যায় (তাহাল্লুলে আসগর), অর্থাৎ স্বাভাবিক পোশাক পরা যায়।
৪. তওয়াফে জিয়াত (ফরজ তওয়াফ): এরপর মক্কায় গিয়ে কাবা শরীফের ফরজ তওয়াফ (তওয়াফে জিয়াত বা তওয়াফে ইফাদাহ) সম্পাদন করা।
৫. সা'ঈ করা: তওয়াফে জিয়াতের পর সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সা'ঈ করা (যাঁরা আগের তওয়াফ-উদুলুমের সাথে সা'ঈ করেননি)।
তওয়াফ ও সা'ঈ শেষে পুনরায় মিনায় ফিরে এসে রাত যাপন করতে হয়।
উপরোক্ত কাজগুলি করার জন্য হাজিরা সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হয় কারণ পবিত্র কাবা ঘর এ আসার জন্য জামারা থেকে যানবাহন বিশেষ করে বাস বন্ধ থাকে। তাই হাজীদের ৪-৫ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে রোদ উপেক্ষা করে আসতে হয়। এই সময় যদি উপরে শেড থাকে তাহলে হাজীদের কষ্ট অনেকটা লাগব হবে।
কাবা ঘরে যে সব নিরাপত্তা কর্মী আছে তাদের ইংলিশ শিক্ষার ব্যবস্থা করা প্রধান ও বহুল ব্যাবরিত ভাষা যেমন বাংলা, উর্ধু, মালয় শিখার ব্যবস্থা করা।
জামারা থেকে পবিত্র কাবা ঘর পর্যন্ত আরো রাস্তা নির্মাণ করা ও হাজীদের জন্য যান বাহনের ব্যবস্থা করা।
নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য বেশি বেশি করে ভদ্রতা ও ধৈর্য শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা
হজের দশম দিন সেলুন গুলুতে বেশি বেশি করে অভিযান চালানো যাতে চুল কাটার ফী বেশি নিতে না পারে ।
মীনা ও মুজদালিফায় আরো বেশি করে টয়লেট নির্মাণ করা।
পবিত্র কাবা ঘর ঘেঁষে যেসব হোটেল আছে যেমন ক্লক টাওয়ার, হিল্টন, সাফা টাওয়ার এগুলি ভেঙে ফেলা ।
হোটেল ও তাঁবুগুলুতে হাজীদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের জন্য নীতিমালা তৈরি ও বাস্তবায়ন করা |
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন