আমেরিকা ইস্রায়েল ও ইরান যুদ্ধ ২০২৬
২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইরানের পরমাণু অস্ত্র বানানোর ইস্যু নিয়ে জেনেভা তে আলোচনা চলা কালীন হঠাৎ করে আমেরিকা ও ইস্রায়েল ইরান এ বোমা বর্ষণ শুরু করে। এতে প্রায় ১৭০ জন স্কুল ছাত্রী সহ ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি ও তার কিছু আত্মীয় নিহত হয় এবং প্রায় ১০০০ আহত হয়। আমরা এইধরণের কাপুরুষোচিত বর্বর হামলার নিন্দা জানাই।
মিস্টার
ট্রাম্প আবারো প্রমান করলো যে সে
একজন কাপুরুষ। যুদ্ধের আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করে
সে আলোচনার টেবিল কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে
একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ চালানো
আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্গন করে । অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে
সে একজন সবচেয়ে নিকৃষ্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে ক্ষমতার অপব্যাবহার
ও দাপট দেখানোকেই বীরত্ব
বলে মনে করে।
কোন
সমস্যার শান্তিপূর্ণ আলোচনায় সে বিশ্বাসী নয়।
সে খুব অস্থির চরিত্রের
লোক। IAEA এর ফাইনাল রিপোর্ট
ছাড়াই একটি দেশকে আরেকটি
দেশ কিভাবে মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে আক্রমণ করতে পারে
তা বিশ্ব নেতাদের ভাবা উচিত।
আমেরিকার
জনগণ কিভাবে এইরকম একজন অস্থির চরিত্রের
লোক কে ভোট দিয়ে
পাশ করালো তা সত্যি ভাবার
ব্যাপার । দ্বিতীয় মেয়াদে
ক্ষমতায় আসার পর একের
পর এক আন্তর্জাতিক
আইনের লঙ্গন , অবিচার প্রতিষ্টা সত্যি বিশ্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।
প্যালেস্টাইনে
প্রায় ৭৩০০০ নিরপরাধ মানুষকে হত্যাসহ কয়েক
লাখ মানুষকে আহত করা হয়েছে
ইস্রায়েল কে দিয়ে ।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট কে জোড় করে
কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়ে জেলখানায়
আটক রাখা হয়েছে ।
বিশ্ব ব্যাপী বার বার অস্বাভাবিক
ট্যারিফ ধার্য
করে বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট এর এই রকম
আচরণ সবলের উপর দুর্বলের অত্যাচার
ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই ধরণের আচরণ কোনো ধর্মেই
নেই। কিন্তু
অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশগুলিও চুপ
চাপ। তারা তো কিছুই
বলছে না। তাহলে তারা
কি তাদের ধর্মীয় বিধি বিধান মানে
না ? অত্যাচারের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করবে
না? তারাও জুলুম, অত্যাচার, অবিচার
প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন দিয়ে যাবে ?
ইউ দেশগুলি দীর্ঘদিন যাবৎ আমেরিকাকে অন্ধ সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে । বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের
পর ইহুদিদের ফিলিস্তিনে পুনর্বাসন করে মিডিল ইস্ট এ যুদ্ধের বীজ বপন করে গেছে। তারা
সরে যাওয়ার পর আমেরিকা ইসরাইলকে সহায়তা দিয়ে যুদ্ধের মাত্রা আরো বাড়িয়ে তুলছে।
অন্যায় ও অনৈতিক
ভাবে মুসলমানদের অধিকার কে অবজ্ঞা করে একতরফা ভাবে ইহুদিদের অন্যায় অযোক্তিক কার্যাবলিকে
সমর্থন দিয়ে আসছে আমেরিকা। জন সংখ্যার অনুপাতে দেশকে ভাগ না করে পেশী শক্তির জোরে মুসলমানদের
নিপীড়ন, পীড়ন, হত্যা করে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ঘর ও জায়গা জমি দখল করে নিচ্ছে।
আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান
দেশগুলির এহেন একতরফা সমর্থন ক্রমেই ফিলিস্তিনিদের মধ্যে অসন্তুষের বীজ বপন করে চলেছে।
সমগ্র মুসলিম বিশ্ব তাদের এই অসমতার রাজনীতিকে ঘৃণার চোখে দেখছে। হামাস, ইসলামী জিহাদ,
হেজবুল্লাহ ও হুতি গুষ্টির আবির্ভাব তারই বহিঃপ্রকাশ।
অন্যান্য মুসলিম
দেশগুলি সরাসরি ফিলিস্তিনকে সমর্থন না দিলেও একমাত্র ইরান এইসব জিহাদি সম্মানিত গেরিলা
গ্রুপ গুলিকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তাই বর্তমানে ইরান আমেরিকা ও ইউ দেশগুলির চোখের কাটা
হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের
সমর্থনে ইরান একমাত্র কড়া ভাষায় জবাব দেয় ইসরাইলকে। এইজন্য ধন্যবাদ ইরানকে। যেখানে
অন্যান্য আরব দেশ ও তুরস্ককে ইরানের পক্ষে থাকার কথা কিন্তু মনে হয় তারা ইসলাম ও নবীজির
আদর্শ থেকে সরে গিয়ে ভিভ্রাতিতে ভোগছে।
একজন মানুষ
তথা মুসলিম দেশের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিৎ আল্লাহ ও নবীজির আদর্শকে মনে প্রাণে ধারণ
ও সেই অনুযায়ী কাজ করা কিন্তু অত্যান্ত হতাশার বিষয় হলো মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি বিশেষ
করে সৌদি,কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইহুদি খৃস্টানদের তাদের
নিজেদের ভূখণ্ডে জায়গা দিয়ে বড় ভুল করেছে।
মনে হয় মধ্যপ্রাচের
ঐসব দেশগুলি আল্লাহ ও রাসূলের আদর্শ কে ভুলে
গিয়ে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে। যে কাফেররা নিরীহ অসহায় নারী ও শিশুদের নির্বিচারে
হত্যা করছে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ও তার আশে পাশের দেশগুলিতে যেমন লেবানন , সিরিয়া,
তে বোমা মেরে পাকা ঘর বাড়ি, হাসপাতাল ধ্বংস করে দিয়েছে।
মুসলমানদের জায়গা নিতে হয়েছে রাস্তায়, সমুদ্রের পারে| ঝড় জলোচ্ছাস, বন্যা ও তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করে জীবন যুদ্ধে লড়াই করে
চলেছে অনবরত।
ইরান
ইরাক ইয়ামেন , লেবানন বাদে সব আরব
দেশগুলি চেয়ে চেয়ে দেখছে
আমেরিকা ও ইউরোপিয়ানদের অত্যাচার
ও নিপীড়ণের দৃশ্য। কিন্তু
আমেরিকা কে কিছু বলতে
পারছে না। নিজেদের ভোগ
বিলাসের জন্য তারা নিজেদের
ধর্মের করণীয় বিষয়গুলি তারা করতে পারছে
না। তারা
কাফের বেঈমান ইহুদিদের অত্যাচার কে মেনে নিচ্ছে।
তাদের অন্তরে আল্লাহ যেন মোহর মেরে
দিয়েছেন।
তাহলে
এখন উপায় কি এইসব
জুলুম বাজদের হাত থেকে রক্ষা
পাওয়ার ? আমার মতে এখন
যেহেতু ইরান আক্রান্ত হয়েছে
তাই অন্যান্য মুসলিম দেশগুলির উচিৎ পর্যাপ্ত আধুনিক
অস্ত্রের সরবরাহ সচল রাখতে উত্তর
কোরিয়া , চীন ও রাশিয়ার
সাথে জোট বাধা। ইরানকে
আর্থিক সহায়তা দেয়া।
এই আর্টিকেল লেখার সময় জানা গেল
আমেরিকার সাথে অন্যান্য জালিম
দেশ যেমন ইংল্যান্ড, জার্মানি
ও ফ্রান্স যোগ দিবে ইসলামী
রাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করতে। এই অবস্থায় ইরানের
যেসব রাষ্ট্র দূত বিভিন্ন মুসলিম
দেশে আছে তারা সরাসরি
সকল মুসলিম দেশের সরকার প্রধানদের সাথে বৈঠক করবে।
তারা
মুসলিম দেশ থেকে অর্থ
সংগ্রহ করে আমেরিকার বিরুধী
দেশগুলি যেমন উত্তর কোরিয়া,
চীন ও রাশিয়া থেকে
অস্ত্র সংগ্রহ করবে। এই অস্ত্র দিয়ে
জুলুমবাজ কাফেরদের বিরুদ্ধে ইরান তার যুদ্ধ
চালিয়ে যাবে। কারণ মুসলমানদের কখনো কাফেরদের
কাছে নতি শিকার কর
উচিৎ নয়।
ইরানের
পক্ষে যদি নিজেদের ভূখণ্ড
ব্যবহার করে যুদ্ধ চালিয়ে
যাওয়া সম্ভব
না হয় তাহলে তুরস্ক,
পাকিস্তান তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে জুলুমবাজদের নাফরমানীর
দাঁত ভাঙা জবাব দিবে।
মুসলিম
দেশগুলিকে মনে রাখতে হবে
সবার আগে আমাদের মুসলিম
উম্মা। আমরা একটি পরিবারের
মত। পরিবারের কেও আক্রান্ত হলে
অন্যান্য সদস্যরা যেমন বসে থাকতে
পারে না তেমনি আমরা
মুসলমানরাও আমাদের উম্মাকে রক্ষা করতে
আমাদের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে পিছপা হবো না।
নবীজির যুদ্ধের
কাহিনীগুলি আমাদের জীবনের পাথেয় হিসাবে নিতে হবে। বিভিন্ন দেশে মুসলমানরা আজ নির্যাতিত
ও নিপীড়িত। আমরা যদি ইরান ও ফিলিস্তিনকে রক্ষা করতে না পারি তাহলে আমরা আমাদের ধর্মীয়
মূল্যবোধ নিয়ে বাঁচে থাকতে পারবো না তাই সব মুসলিম দেশ গুলির উচিৎ ইরানকে সহায়তা করার
জন্য এগিয়ে আসা |
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন