ফিলিস্তিন এ ইসরাইলের গণহত্যার অবসান কিভাবে সম্ভব ?

প্রায় দুই বছর হতে চলছে ইসরাইল প্যালেস্টাইনের উপর বর্বোরচিত গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে | অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমরা ইসরাইল এর এই গণহত্যার ধিক্কার ঘৃণা জানাচ্ছি | ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নেটো জোট নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে | আরব রাষ্ট্রগুলি এবং আমাদের এশিয়ান শক্তিশালী দুইটি দেশ বিশেষ করে চায়না রাশিয়া নীরব ভূমিকা পালন করছে

প্যালেস্টাইনে যেহেতু মুসলমানদেরকে নির্বিচারে হত্যা করছে তাই বিশ্বজোড়ে যেসব মুসলমান রাষ্ট্র আছে তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে | বিশ্ব মোড়লদের সারা না মিললেও মুসলমানদের এই ব্যাপারে অনেক দায়িত্ব কর্ত্তব্য রয়েছে| | প্রসঙ্গে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন আদর্শ অনুসরণের বিশেষ তাগিদ রয়েছে

আমরা মুসলমান একে অপরের ভাই| যখন একজন মুসলমান আক্রান্ত হয় তখন আরেকজন মুসলমানের উচিত তার প্রতিরোধ করা বা তার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া | ব্যক্তি, সামাজিক রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রযোজ্য

ইসরাইল কর্তৃক যখন প্যালেস্টাইন আক্রান্ত এবং নির্যাতনের শিকার তখন অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর উচিত তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা | কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট আলোচনা করলে দেখা যায় মুসলিম রাষ্ট্র গুলি কেমন যেন চুপ হয়ে গেছে | তাহলে কি তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ম্লান হয়ে যাচ্ছে ? তারা কি ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে সরে যাচ্ছে

যেহেতু প্রায় দুই বছর যাবত এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল এবং পুরা বিশ্ব তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে সে ক্ষেত্রে মুসলমান ভাইদের অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে| কারণ আমাদের ধর্মীয় দায়িত্ববোধ রয়েছে | নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমরা অপরের বিপদে এগিয়ে যাব না এটা মুসলমান ধর্মের নীতির পরিপন্থী

ইসরাইল প্যালেস্টাইনের মধ্যে গত ১০০ বছরের মধ্যে যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে তার মধ্যে এই যুদ্ধ অতীতের কোন নির্যাতনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে | ১৯০০ সালের প্রথম দিক থেকে শুরু করে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত যে যুদ্ধগুলো হয়েছে সেখানে এত লোক মারা যায়নি কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ হাজার লোক মারা গেছে অভিশপ্ত ইস্রাইলি  সৈন্যদের হাতে

 ইসরাইলি বর্বর অসভ্য বাহিনীর হাত থেকে শিশু, নারী, বৃদ্ধ ,সাংবাদিক, জাতিসংঘের নিযুক্ত লোকজন, বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থার লোকজন কেউ রক্ষা পায় নি | শুধু তাই নয় বর্বর অসভ্য বাহিনী সকল ধরনের লোককে অনাহারে রেখে গণহত্যার জঘন্যতম পর্যায় অতিক্রম করেছে

তাই পুরো বিশ্ব চুপ করে থাকলেও ধর্মীয় অনুভূতির কথা চিন্তা করে আমরা মুসলমানরা চুপ করে থাকতে পারিনা | মুসলিম দেশগুলির  বেশিরভাগ দেশ দরিদ্র টেকনোলজিতে পিছিয়ে আছে | তবে যাদের সামর্থ্য আছে যেমন তুরস্ক, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, এদেরকে এগিয়ে আসতে হবে

এখন এই সমস্যার সমাধানের জন্য ইসলামিক  রাষ্ট্রগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ হিসাবে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে | যুদ্ধের স্টেক হোল্ডার যারা আছেন বিশেষ করে আমেরিকা ইউরোপীয় ইউনিয়ন তারাই এটার একমাত্র সমাধান দিতে পারেতাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে|

সব মুসলিম দেশগুলোকে একত্র হয়ে আমেরিকা ইউ কান্ট্রি গুলোর সাথে জরুরি ভিত্তিতে মিটিং করতে হবে যাতে অনতিবিলম্বে এই গণহত্যা বন্ধের একটি চুক্তিতে উপনিত হওয়া যায় | প্রয়োজনে হামাস, আমেরিকা ইউ দেশগুলোকে সাথে নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে | যেকোন মূল্যে আমাদের এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে| এটা আমাদের ধর্মের দাবি | আমাদের ঈমানের দাবি

আমরা মুসলমানরা প্রতিদিন এভাবে সাধারণ নারী-পুরুষ নিরীহ মানুষকে হিংস্র হায়নার মুখে তুলে দিতে পারি না | মুসলিম নেতাদের বিষয়ে অবশ্যই জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে | সম্প্রতি ইসরাইল কর্তৃক কাতার আক্রমণ মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে তাদের আর বসে থাকার সময় নেই | তাদের যা সামর্থ্য আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে |

 ইসরাইলের আচরণ বিধি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে তারা সব আরব রাষ্ট্রগুলিকে দখল নিতে তারা মরিয়া হয়ে আছে  | যেকোনো দেশে যেকোনো সময় তারা আক্রমণ করতে পারে | তাদের হিংস্রতা এতদূর এগিয়েছে যে যেকোনো সময় তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য সৌদি আরবকেও আক্রমন করতে পিছপা হবে না |

 তাই উপরোক্ত প্রথম পদ্ধতি যদি ব্যর্থ হয় তবে দ্বিতীয় পদ্ধতির জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে | অর্থাৎ ইসরাইলকে মোকাবেলা করার জন্য আমাদের মুসলমানদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র সংগ্রহের জন্য এগিয়ে যেতে হবে | ব্যাপারে মুসলিম দেশগুলোকে উত্তর কোরিয়া , চায়না রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হতে হবে প্রয়োজনীয় অস্ত্র সংগ্রহের জন্য

ব্যাপারে মুসলিম দেশগুলো আর্থিক সহায়তা করবে এই অস্ত্র সংগ্রহের জন্য| ব্যাপারে ইয়েমেন, ইরান, পাকিস্তান তুরস্ককে নেতৃত্বে রাখা যেতে পারে | মুসলমানদের সর্বশেষ বিজয় অটোমেন সাম্রাজ্যের মতো তুরস্ককে আবার নতুন পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে | 1922 সালের পর তুরস্কের বড় ভুল হয়েছে ব্রিটিশের সাথে পরাজিত হওয়ার পর তারা বড় ধরনের কোন পদক্ষেপ নেয়নি তাদের জয়যাত্রা পুনরায় ফিরে পাওয়ার জন্য মুসলমান শত্রুদেরকে পরাজিত করার জন্য

আমাদের নবীজির জীবনী আলোচনা করলে দেখা যায় নবীজির জীবদ্দশায় অনেকগুলো যুদ্ধ হয়েছে যার বেশিরভাগই ইহুদি বিধর্মীদের সাথে | এই বেদিন, বেঈমান, পথভ্রষ্ট ইহুদিরা এখনো মুসলমানদের পিছনে লেগে আছে| বর্তমান সময়কালকে আধুনিক যুগ বললেও নেতানিয়াহুর নির্মমতা, গণহত্যা অবিচার সমগ্র বিশ্বকে আদিম যুগের সর্বনিম্ন স্তরে নিয়ে গেছে

মুসলমানদের প্রতি তার বিদ্বেষ ক্রমেই বেড়ে চলেছে  | সমস্ত মুসলমানকে বর্তমান যুগের ফেরাউন নেতানিয়াহকে মোকাবেলা করার সময় এখনই | প্রতিদিন আমাদের চোখের সামনে ফিলিস্তিনি নিরীহ নারী পুরুষ, শিশু, কিশোর বিভিন্ন স্তরের মানব হত্যা সত্যি আমাদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করছে

সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে হতবাক করে দিচ্ছে| আমরা মুসলমানরা যদি এই ইসরাইলকে আঘাত না করি তাহলে তাদের অত্যাচারের সীমা আরো ছাড়িয়ে গিয়ে পুরো বিশ্বকে অনিরাপদ করে তুলবে

  Saudi Arabia, Kuwait, Qatar, Bahrain, UAE, Oman, Egypt, Jordan যাদের সাথে আমেরিকার বন্ধুত্ব রয়েছে তারা কেন আমেরিকা কে দিয়ে যুদ্ধ বন্ধের কার্যকরী পদ্ধক্ষেপ নিতে পারছে না ? সম্প্রতি কাতারে ইস্রাইলি বিমান হামলা প্রমান করছে তারাও নিরাপদ নয় ইস্রায়েল মার্কিন আক্রমণ থেকে | তাই এইসব আরব দেশগুলোকে নতুন করে ভাবতে হবে | তারা আমেরিকার সৈন্যদের জায়গা দিয়ে খাল কাটে কুমির আনে নাই তো

মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে তাদের নিজেদের স্বয়ং সম্পূর্ণ হতে হবে আর তা না পারলে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো কে সাথে নিয়ে প্রতিরক্ষা মূলক জোট গড়ে তুলতে হবে | এই মধ্য প্রাচ্যের দেশ গুলোকে মনে রাখতে হবে ব্রিটিশরা মুসলমান নিধনের বীজ বপন করে গেছে ফিলিস্তিনে | এখন মার্কিন শক্তি তার দূসর ইস্রায়েল কে দিয়ে গণ হত্যা চালিয়ে তার পরিচর্চা করছে

 সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহ প্রমান করে আমেরিকা এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পরোক্ষ ভাবে ইসরাইলকে মদদ যোগাচ্ছে | এই পর্যন্ত যুদ্ধ বিরতির জন্য জাতিসঙ্গে যতগুলো প্রস্তাব এসেছে তার বিরুদ্ধে একমাত্র আমেরিকা ভেটো দিয়েছে | অর্থাৎ তারা যুদ্ধ বিরতি চায় না | তারা চায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়ে যাক |

 তাই আরব বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে হবে তারা কি শুধু নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য স্ব্যস্ত থাকবেপার্শবর্তী দেশে জুলুম অত্যাচারের শিকার মুসলমানদের রক্ষায় এগিয়ে আসবে না ? অমুসলিম অত্যাচারি সীমা লঙ্ঘন করি বর্বর দেশের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবে ?   জুলুম অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে এগিয়ে আসবে না ?

পথভ্রষ্ট ইহুদী রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য মুসলিম দেশগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে | বিশেষ করে আরব বিশ্বকে মুসলমানদের ঐতিহ্য ধর্মীয় মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখার জন্য এখন থেকেই গবেষণামূলক কার্যক্রম শুরু করতে হবে

এমন কোন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা যায় কিনা যাতে করে মুসলিম দেশগুলো তাদের নিজস্ব ভৌগলিক সীমারেখা থেকে বর্তমানের চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী মিসাইল বা বোমা নিক্ষেপ করে ইসরাইল রাষ্ট্রকে আক্রমণ করতে পারেনিজেদের আকাশ সীমাকে আয়রন ডোমের মতো প্রযুক্তি দিয়ে ঠেকিয়ে দিতে পারে শত্রু পক্ষের আক্রমণ থেকে |

মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে মুসলমান মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণাগার গড়ে তুলতে হবে | এই গবেষণাগারে মুসলমান বিজ্ঞানীরা মুসলমানদের রক্ষার্থে শত্রুদের মোকাবেলা করার জন্য আধুনিক অস্ত্রের উদ্ভাবন করবে | মুসলমানদের অস্তিত্ব, আদর্শ মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখার জন্য এই গবেষণাগারের গবেষণাগারের কোন বিকল্প নেই

 তাই আরব মুসলিম দেশগুলোকে  অর্থায়নের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে | আশা করি ব্যাপারে মুসলমান রাষ্ট্রগুলো আর কাল বিলম্ব না করে এখনই আন্তর্জাতিক মুসলিম জোট ঘটনে জরুরি পদ্ধক্ষেপ নিতে সমর্থ হবে

৫০ বা ১০০ বছর বছর পর হলেও আমাদের এই মানব সমাজের ভাইরাস পথ ভ্রষ্ট ইহুদি শত্রুদের বা তাদের বংশদরদের গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠ গড়ায় এনে সত্যিকারের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবেফিলিস্তিনে গণহত্যার বদলা নিতে হবে | আমাদের সময়ে না হলেও আমাদের পরবতী মুসলিম জেনারেশন যেন এই কাজটি করতে পারে তার ব্যবস্থা বর্তমান মুসলিম নেতাদের করে যেতে হবে | অন্যথায় তারা জিজ্ঞাসিত হতে পারেন মহান আল্লাহতালার কাছে তাদের দায়িত্বে অবহেলার জন্য

সর্বশেষে আমরা আশা করি মুসলিম রাষ্ট্রগুলি তাদের নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে বৃহত্তর উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এগিয়ে আসবে | ইসলামের আলোয় আবার বিশ্বকে আলোকিত করবে | বিশ্ব থেকে আবার অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার জুলুম দূর করে বিশ্বে আবার শান্তি  ফিরিয়ে আনার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে | মহান আল্লাহ তালা আবার মুসলমানদের ইসলামের আলোয় আলোকিত হওয়ার শক্তি দান করুন |

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Root Cause of Middle East Conflict

ISO 27001 Certification in Bangladesh