হজ্জের সময় সবচেয়ে কষ্টের দিন কোনটি ?

 হজ্জে যাওয়ার পর মক্কায় যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তারমধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক ও মারাত্মক সমস্যা হলো দুপুর বেলা ৪২-৪৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা সহ্য করে 3-4 কিলোমিটার হাঁটা | আমাদের হোটেল ছিল হারাম শরীফ এর কাছে | যার দূরত্ব ছিল জামারা থেকে প্রায় 3-4 কিলোমিটার |

হজ্জের তৃতীয় দিন অর্থাৎ 10 জিলহজ মুজদালিফা থেকে জামারায় আসতে হয় বড় শয়তানকে 7টি পাথর মারার জন্য | সন্ধ্যার আগেই এটা করতে হয় | মুজদালিফা থেকে আসার সময় ট্রেন এ উঠতে হয় ভীষণ যুদ্ধ করে |এই সময় লক্ষ লক্ষ লোক লাইন এ দাঁড়িয়ে ট্রেনে উঠে থাকে | ট্রেন জামারা স্টেশন এ আসার পর বড় শয়তানকে পাথর মারতে হয় |

পাথর মারার পর হোটেল এ বা হারাম শরীফ এ যাওয়ার সময় যত বিপত্তি শুরু | কারণ এই সময় রাস্তায় যানবাহন বা বাস বন্ধ থাকে | অপর দিকে ট্যাক্সির ভাড়া প্রায় 5-6 গুণ বেড়ে যায় | এই বাড়তি ভাড়া বহন করা অনেক হাজির পক্ষেই বহন করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পরে | এই জাগাতেই আপনাকে এজেন্ট এর সাথে আলাপ করে নিতে হবে প্রয়োজনে 300 টাকার স্ট্যাম্প এ লিখিত নিতে হবে যে 10 তারিখ জামারা থেকে হারাম শরীফ এ ট্যাক্সি ভাড়া করে আন্তে হবে এবং তাওয়াফ শেষে আবার মিনাতে আসার সময় ট্যাক্সি করে আন্তে হবে | এই বিষয় টা আপনাকে অবশ্যই এজেন্ট এর সাথে ফয়সালা করে নিতে হবে অন্যথায় ভোগান্তি পোহাতে হবে হজ্জের সময় |

সবচেয়ে বেশি কষ্টের দিন এই তৃতীয় দিন অর্থাৎ 10ই জিলহজ |ঐদিন ভোরবেলা ফজরের নামাজ পরে আপনাকে রওনা দিতে হবে জামারায় পাথর মারার জন্য | একেতো মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপনের সময় অনেকের পক্ষেই ঘুমানো সম্বব হয় না |তাই ক্লান্তি নিয়ে আপনাকে সকাল সকাল যাত্রা শুরু করতে হয় | জামারায় পাথর মেরে কুরবানী করে কষ্টের জার্নি করে জামারায় গিয়ে চুল কেটে সাফা মারওয়া সায়ি  করে আবার মিনায় ফিরে আসা খুবই কষ্টের কাজ |

অনুরূপ ভাবে 12 জিলহজ জামারা থেকে পাথর মেরে যখন হোটেলে আসবেন তখন ও এই ট্যাক্সি সার্ভিস যাতে এজেন্ট দেয় তার কথা বলে নিবেন বা চুক্তিতে লিখে নিবেন |কারণ এই দিনও বাস বন্ধ থাকে জামার থেকে হারাম শরীফ এ বা তার আশে পাশে আসার জন্য |

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Root Cause of Middle East Conflict

ISO 27001 Certification in Bangladesh

আমেরিকা ইস্রায়েল ও ইরান যুদ্ধ ২০২৬