Who can Stop America from Iran War
আমেরিকা ও ইস্রায়েল ইরান এ বোমা হামলা করে এপর্যন্ত 2076 ইরানি নিহত হয়েছে, যা ইস্রায়েল ও আমেরিকানদের নিহত সংখ্যার চেয়ে অনেক গুন্ বেশি | তাছাড়া আমেরিকা ও ইস্রায়েল যে ধ্বংস যজ্ঞ চালিয়েছে ইরানে তার 1000 ভাগের এক ভাগ ও ধ্বংস করতে পারে নি ইরান |
বিভিন্ন বুদ্ধজীবী, রাজনীতিবিদ, সামরিক নেতা, পরমাণু বিজ্ঞানী ও সুপ্রিম লিডার আয়তুল্লাহ খোমেনী সহ অনেক গুরুত্ব পূর্ণ মানুষকে হত্যা করেছে ইস্রায়েল ও আমেরিকা | ওপর দিকে মাত্র 13 আমেরিকান সৈন্য , 26 ইস্রাইলি নাগরিক ও 28 GCC দেশের লোক নিহত হয়েছে | সুতরাং এই দিক দিয়ে ইরান অনেক পিছিয়ে আছে | নিহত হওয়ার আপডেট তথ্য এই লিংকে পাওয়া যাবে |
ইরানের এত কম সাফল্য কারণ তারা আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করে নি | তাছাড়া তাদের বিমান বাহিনী খুবই দুর্বল | তাই তারা মধপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন কোনো ঘাঁটিতে তেমন ধ্বংস যজ্ঞ চালাতে পারে নি | তাছাড়া তাদের আকাশ ডিফেন্স সিস্টেম ও অকেজো করে দিয়েছে আমেরিকা ও ইস্রায়েল | তাই তারা তাদের বিমান আক্রমণ ঠেকাতে বার্থ হয়েছে |
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই দুর্বল সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ইরান যুদ্ধে জড়ালো ? চীন ও রাশিয়া তাদেরকে কি কৌশলগত সহায়তা দিচ্ছে? যদি সত্যি সত্যি চীন ও রাশিয়া ইরানকে সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে তাহলে আমেরিকা কে TACKLE দেয়ার মতো যথেষ্ট না |
তারা কেন আরো আধুনিক মারণাস্ত্র চীন ও রাশিয়া থেকে মজুদ করে রাখে নি ? 2024 সালের জুন মাসে আক্রমণের পর থেকে তাদের উচিত ছিল আরো জোরালো প্রস্তুতি নেয়া | আমার মনে হয় ইরান তা করতে ব্যর্থ হয়েছে তাই তাদের আজকে এই অধঃপতন | তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আমেরিকা হাজার বছরের সংকস্কৃতিকে ও ঐতিহ্যকে ধ্বংসের করে দিচ্ছে |
এই মুহূর্তে ইরানের উচিত এই দুই পরাশক্তির সাথে নতুন করে চুক্তি করা যাতে তারা মানে চীন ও রাশিয়া ডাইরেক্ট সামরিক হস্তক্ষেপ করে আমেরিকা ও ইস্রায়েল এর বিরুদ্ধে | প্রয়োজনে পুরো তেল এই পরাশক্তিকে লিজ দিয়ে হলেও চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করা | অন্যথায় আমি ইরানের পরাজয় বরণ করা ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না |
সাদ্দাম হোসাইন যেমন তার ফাঁকা বুলি দিয়ে নিজের দেশ ইরাক কে ধ্বংস করেছিল , ইরান মনে হয় সেই দিকেই হাটছে | যা শুধু ইরানের জন্য নয় সমগ্র মুসলিম দেশগুলির আশা ভরসা কে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে | তুরস্কের অটোমেন সম্রাজ্যের পতনের পর মুসলিম সভ্ভতার আরেক ধাপ অধঃপতন হতে চলেছে | বিষয়টি মুসলিম দেশগুলিকে তথা মুসলিম নাগরিকদেরকে হতাশায় ডুবিয়ে দিচ্ছে |
তাই ইরানের উচিত কাল ক্ষেপন না করে আমেরিকা ও ইস্রায়েল এর কাছে লজ্জাস্কর পরাজয় না মেনে দ্রুত তার শক্তিশালী বন্ধুদের সহায়তা নেয়া | সেইটা যেকোনো ধরণের চুক্তির মাধ্যমে হতে পারে | অন্যথায় দুই একটি মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে আর শত্রু পক্ষকে মোকাবিলা করা হয়তো বা সম্ভব হবে না | এতে করে ইরান তার জনগণকে বিপদের মধ্যে ফেলবে হাজার হাজার বছরের সভ্ভতাকে ধ্বংস করবে ও পুরো বিশ্বের ইসলাম ধর্মানুসারীদের কে হতাশ করবে |
শীর্ষ ইরানি তেল আমদানিকারক দেশগুলি হলো : চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্ডিয়া, জাপান ও তুরস্ক | এই সব দেশগুলির মধ্যে ইন্ডিয়া ইস্রায়েল এর বন্ধু, কোরিয়া মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের বন্ধু তাই তারা কিছুই বলবে না কিন্তু হতাশ হচ্ছি চীন তুরস্ক ও জাপান এর ভূমিকা নিয়ে | তারা তাদের সবচেয়ে বড় ব্যাবসায়িক পার্টনার কে বিপদের মধ্যে দেখেও কিছুই বলছে না মার্কিন আগ্রাসণ এর বিরুদ্ধে ?
বিপদে বন্ধু চেনা যায়| ইরান মনে হয় তার বন্ধুদের এখন ও ভালোভাবে চিনতে পারে নি | অপরদিকে ইরানের সকল নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনে দুই পড়া শক্তি চীন ও রাশিয়া কিছুই বলছে না | তারা পড়া শক্তি হয়েও এবং নিউক্লিয়ার প্রজেক্ট এর গুরুত্বপূর্ণ পার্টনার হওয়া সত্ত্বেও 10,000 মাইল দূর থেকে এসে তাদের গড়া প্রজেক্ট বোমা মেরে ধ্বংস করে দিচ্ছে আর কিছুই বলছে না |
এই দুই পড়া শক্তির ভূমিকা নিয়ে সত্যি বিশ্ব হতবাক | ইরানের সাথে সাথে তাদেরও তো অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে| অপরদিকে আরেকটি পড়া শক্তি আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে অপর একটি ছোট দেশের সারভৌমত্ত শক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে নির্বিচারে বেসামরিক লোকজন ও স্থাপনা ধ্বংস করে যাচ্ছে আর তার পাশের প্রতিবেশী হয়েও চীন ও রাশিয়া কিছুই বলছে না বিষয়টি সত্যি ধুখজনক ও হতাশার | এই দুই দেশের উচিৎ আমেরিকা কে ধমক দেয়া | যুদ্ধ বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া |
তাহলে অন্যায় ও অত্যাচারী আমেরিকাকে কে থামাবে ? কে এগিয়ে আসবে এই দেশটিকে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে ? তাদের এই অত্যাচারের শিকার হচ্ছে সমগ্র বিশ্ব | বিশেষ করে এশিয়ান দেশ গুলু যারা মধ্য প্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করে থাকে | সমগ্র বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে এই খামখেয়ালি যুদ্ধের জন্য | আমরা আশা করবো চীন রাশিয়া ও সাথে অন্নান্য সামর্থবান দেশগুলি এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য এগিয়ে আসবে |
আপনারা কি মনে করেন নিচে মতামত দেন |
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন