কেন আমেরিকা ইরান আক্রমণ করে

 মিস্টার ট্রাম্প তার স্টেটমেন্টে প্রায় প্রায় বলেন যে ইরান বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে মার্কিন  নাগরিক ইস্রায়েল নাগরিকদের হত্যা করে থাকে। কিন্তু তিনি কি নিজেকে একবারও  জিজ্ঞেস করেছেন কেন ইরান সেইটা করে থাকে ? অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে একটা প্রধান কারণ হলো ফিলিস্তিনিদের আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমেরিকা ইস্রায়েল এর বিরুধিতা।

UN রেজুলেশন ১৮১ অনুযায়ী জাতিসংঘ জনসংখ্যার অনুপাতে দেশটিকে ভাগ না করে আমেরিকা তার পক্ষপাততুষ্ট 33 টি দেশ মিলে ইসরাইলকে বেশি ভূমি দিয়ে ইসরাইল নামক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়| আরব দেশগুলি পাকিস্তান সহ 13টি দেশ এর বিরুধিতা করে | 10টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে |

1947 সালের নভেম্বর মাসের 29 তারিখ এই ভাগের কাজটি সম্পাদন হয় | তখন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদি ফিলিস্তিন মুসলমানদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় |এরপর আমেরিকার ভেটো পাওয়ার এর জন্য সঠিক জন সংখ্যার ভিত্তিতে আরব রাষ্ট্র তথা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন হতে পারে নি | জাতিসংঘে বার বার আমেরিকা ইসরাইলিদের পক্ষ অবলম্বন করছে | বিষয়টি বিশ্ব বিবেক কে হতাশ করেছে এবং এখনো করছে |

তাই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ন্যায়বিচার না করে আমেরিকা সবসময় একপেশে নীতি অবলম্বন করে আসছে। একতরফা ভাবে ইজরায়েল কে সমর্থন করে যাচ্ছে। অপর  দিকে ইজরায়েলকে অস্ত্র সামরিক সহায়তা দিয়ে ফিলিস্তিনে অসহায় নিরীহ মানুষদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করতে সহায়তা করে চলেছে। 

1947 থেকে 2023 পর্যন্ত ইসরাইল ও আরব রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অনেকগুলি যুদ্ধ হয়েছে | কিন্তু গত দুই বছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৭৩০০০ নিরীহ নারী পুরুষকে হত্যা করে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করছে ইস্রাঈল।

ইজরায়েল এর এই গণ হত্যা দেখেও কেও প্রতিবাদ করছে না। সমগ্র বিশ্ব নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।  শুধু ইরান ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করছে। ফিলিস্তিন আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সহায়তা করে যাচ্ছে। তাই ইরান আমেরিকার চোখের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫ এবং ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের প্রধান তারিখগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. ১২ দিনের যুদ্ধ (Twelve-Day War) - ২০২৫

এটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত বিধ্বংসী যুদ্ধ, যা মূলত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেয়।

  • শুরু: ১৩ জুন, ২০২৫ (ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে)।
  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান হামলা (Operation Midnight Hammer): ২২ জুন, ২০২৫। এই দিনে আমেরিকার B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের নাতাঞ্জ, ফোরডো এবং ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক বোমা হামলা চালায়।
  • শেষ/যুদ্ধবিরতি: ২৪ জুন, ২০২৫। যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

২. বর্তমান সরাসরি যুদ্ধ (Operation Epic Fury) - ২০২৬

২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে ২০২৬ সালের শুরুতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়, যা বর্তমানেও চলমান।

  • শুরু: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ঘটনা: এই দিন সকালে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে "অপারেশন এপিক ফিউরি" শুরু করে।
  • মূল ঘটনা: ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপের আক্রমণেই তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেই নিহত হন।
  • পাল্টা হামলা: ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ১ মার্চ থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে (কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান,) কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন দিয়ে হামলা শুরু করে।

যুদ্ধে এই পর্যন্ত প্রায় 2000 ইরানি নিহত যার মধ্যে নারী, শিশু, খামেনি সহ  গুরুত্বপূর্ণ IRGC সদস্য রয়েছে |  সর্বশেষ নিহত ও আহত এর হিসাব এই লিংক থেকে দেখে নিন :

যদিও ইরান আক্রমণের প্রথমে বলেছিলো যে রেজিম চেঞ্জ এর জন্য আক্রমণ | খামেনি হত্যার পর বলছে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস ও পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করার জন্য এই অবৈধ যুদ্ধ শুরু করেছে আমেরিকা |

এক এক সময় এক এক নাটক করছে আমেরিকা | এতে বোঝার বাকি নেই যে ইরানের তেল সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য ও পুরো মধপ্রাচ্যকে মার্কিন কলোনী বানানোই তাদের লক্ষ্য | ঠিক পরমাণু অস্ত্রের কারণ মিথ্যা কারণ দেখিয়ে যেভাবে ইরাক কে ধ্বংস করেছিল 2003 সালে |

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফিলিস্তিন এ ইসরাইলের গণহত্যার অবসান কিভাবে সম্ভব ?

Root Cause of Middle East Conflict

ISO 27001 Certification in Bangladesh