UNITED NATIONS RESOLUTION 181

 ১৯১৭ সালে ব্রিটিশরা অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। একই সালে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ইহুদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্টার কথা ঘোষণা করে। ১৯২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ বেসামরিক প্রশাসন শুরু হয় এবং ১৯২২ সালে লিগ অফ নেশনস ফিলিস্তিনের শাসনের জন্য ব্রিটেনকে ম্যান্ডেট বা আইনি কর্তৃত্ব প্রদান করে |

ব্রিটিশরা মধ্যপ্রাচ্যে তার ক্ষমতার লেজুড় ধরে রাখার জন্য মুসলমানদের শত্রু ইহুদি জাতিকে ফিলিস্তিনে পুনর্বাসন করতে থাকে । আনুমানিক ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ ইহুদি শরণার্থী অবৈধভাবে বা ব্রিটিশদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সমুদ্রপথে ফিলিস্তিনে প্রবেশ করার চেষ্টা করে (যাকে 'Aliyah Bet' বলা হয়)। ১৯৪৮ সালের মে মাসে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট শেষ হওয়ার পর এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণার ঠিক পরবর্তী ৩ বছরে (১৯৪৮-১৯৫১) প্রায় ৬,৮৭,০০০ ইহুদি অভিবাসী সেখানে আসে। তখন আর ব্রিটিশদের বাধা ছিল না।

১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জাতিসংঘের ১৮১ নম্বর প্রস্তাব (UN Resolution 181) গৃহীত হয়। এটি ফিলিস্তিন বিভাজন পরিকল্পনা (Partition Plan) নামেও পরিচিত। ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার পর ওই ভূখণ্ডে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।


১৮১ নম্বর প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু

এই প্রস্তাবে ফিলিস্তিনকে তিনটি অংশে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল:

  • একটি ইহুদি রাষ্ট্র: মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫৬% এলাকা।
  • একটি আরব রাষ্ট্র: মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৩% এলাকা।
  • আন্তর্জাতিক জোন (Corpus Separatum): জেরুজালেম এবং বেথলেহেমকে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক শাসনের অধীনে রাখার কথা বলা হয়েছিল, যাতে সব ধর্মের মানুষের পবিত্র স্থানে প্রবেশাধিকার থাকে।

তৎকালীন প্রতিক্রিয়া

  • ইহুদি পক্ষ: তারা এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছিল। যদিও তারা সব এলাকায় খুশি ছিল না, তবে এটি তাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র (ইসরায়েল) গঠনের আইনি ভিত্তি দেয়।
  • আরব পক্ষ: ফিলিস্তিনি আরব নেতা এবং পার্শ্ববর্তী আরব দেশগুলো এটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের যুক্তি ছিল, এটি স্থানীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অধিকারের পরিপন্থী এবং অন্যায়ভাবে জমি বণ্টন করা হয়েছে।

ফলাফল

এই প্রস্তাবটি কাগজে-কলমে পাস হলেও বাস্তবে কার্যকর হতে পারেনি। কারণ বিভাজনটি জনসংখ্যার ন্যায্যতার ভিত্তিতে করা হয় নি। তাই ফিলিস্তিনে জনসংখ্যার অনুপাতে ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্টা না করেই দায়সারা ভাবে ব্রিটিশরা  তাদের শাসনভার সরিয়ে নেয় ১৪ মে ১৯৪৮ সালে। ঐ দিনই ব্রিটিশরা যাওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেই ইস্রায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়া হয়।

ব্রিটিশরা ফিলিস্তিন ত্যাগ করার সাথে সাথেই প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। যুদ্ধের পর সীমানা আমূল বদলে যায় এবং প্রস্তাবিত "আরব রাষ্ট্র" আর গঠিত হতে পারেনি।

১৯২২ সালে ব্রিটিশদের দ্বারা পরিচালিত প্রথম আনুষ্ঠানিক আদমশুমারির (Census) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ১৯২০ সালের একটি আনুমানিক চিত্র পাওয়া যায়।

১৯২০ সালের দিকে ফিলিস্তিনের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লক্ষ ৮ হাজার

১৯২০ সালের আরব ও অন্যান্য জনসংখ্যা:

গোষ্ঠী

আনুমানিক জনসংখ্যা

শতাংশ (%)

আরব মুসলিম

৫,৯০,০০০

৮০%

আরব খ্রিস্টান

৭৩,০০০

১০%

ইহুদি

৬৭,০০০

৯%

অন্যান্য

৮,০০০

১%

 

উপরোক্ত ডাটা থেকে দেখা যাচ্ছে আরব মুসলিম রা শঙ্কা গরিষ্ট  ছিল। আরব রাষ্ট্র গুলি সন্তুষ্ট না হওয়ার কারণ ছিল জনসংখ্যার  ভিত্তিতে ফিলিস্তিন ভাগ করার কথা বলা হয় নি। তাই আরব স্বাধীন রাষ্ট্রগুলি সহ পাকিস্তান, তুর্কি এর বিরুদ্ধে মত দেয় ।


অপর দিকে ইস্রায়েল কর্তৃক স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার পর পরই আমেরিকা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় | অর্থাৎ পক্ষপাতমূলক আচরণ এর মাধ্যমে আমেরিকা সুবিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমর্থন না জানিয়ে একই মতাবলম্বী আরো 33 খ্রীষ্টান দেশ মিলে জাতিসংঘ রিসোলিউশন 181 পাস করে নিয়ে তাদের অন্ধ ও অবিচার প্রতিষ্টা করার জন্য যাত্রা শুরু করে |

ধর্মীয় নিরপেক্ষতাকে উপেক্ষা করে ইহুদি গোষ্ঠীকে অন্ধ সমর্থন জানিয়ে মধপ্রাচ্যে তার কর্তৃত্ব ধরে রাখা ও তেল সম্পদ কুক্ষিগত করার লক্ষে গালফ স্টেট গুলুতে আমেরিকা  তার কলোনিয়াল রুল প্রতিষ্টার জন্য পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে L


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফিলিস্তিন এ ইসরাইলের গণহত্যার অবসান কিভাবে সম্ভব ?

Root Cause of Middle East Conflict

ISO 27001 Certification in Bangladesh