আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে আমেরিকা একটি স্বাধীন সার্ভভৌম দেশের উপর নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করে যাচ্ছে। সাথে অনেক বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করছে। অবস্থা দেখে মনে হয় আমেরিকা পৃথিবীতে অশান্তির বীজ বপন করে চলেছে। আধুনিক সভ্য জগতে এই ধরণের অসভ্য আচরণ মানুষের আদিম যুগের পশুত্ব আচরণকে ডেকে আনছে |

আল্লাহতায়ালা বিভিন্ন জাতির বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বব্যাপী | প্রকৃতিগতভাবে এসব জাতির সংস্কৃতির মানুষ তাদের মতো করে জীবন যাপন করবে এটাই স্বাভাবিক | একটি নির্দিষ্ট দেশের জনগণই ঠিক করবে তাদের সরকার কে হবে | কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের regime চেঞ্জ এর পলিসি মানুষকে হতাশ করে চলেছে | পুরো বিশ্ব অবাক দৃষ্টিতে দেখছে আমেরিকার আচরণ | তারা অমানবিক নিষ্টুর অবিচার কায়েম করার চর্চায় মত্ত হয়ে গেছে |

অর্থনৈতিকভাবে প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী একটি দেশের এইধরণের অসভ্য আচরণ পুরো মানবজাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে | এখনই সময় এসেছে আমেরিকা সমন্ধে মনোভাব পরিবর্তন করার | যেসব দেশ পুরোপুরি আমেরিকা নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলেছে তাদেরকে নতুন করে ভাবতে হবে তারা কি এই সম্পর্ক ধরে রাখবে নাকি ছিন্ন করবে?

হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা একটি দেশের সংস্কৃতি ধ্বংসের অধিকার কোন দেশের নাই | এটা অবৈধ অনৈতিক আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্গন | বিশ্বের প্রতিটি দেশের উচিত এইসব অপকীর্তির সমালোচনা করা তাকে এইসব অপকাজ থেকে নিবৃত্ত করা | কিন্তু বিশ্বের কোন একটি দেশ আমেরিকার এই অপকর্মকে নিবৃত্ত করার নিমিত্তে ভূমিকা রাখছে না | বিশেষ করে উন্নত দেশগুলি মুসলিম দেশগুলির উচিত আমেরিকার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা | কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ধররনের পদ্ধক্ষেপ কেও নেই নি ; এটি সত্যি দুঃখজনক |

প্রতিটি ধর্মেই অন্যায়কারীকে তার কাজের জন্য ঘৃণা করার কথা বলা হয়েছে |  কিন্তু কোন একটি দেশ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে তা দেখাতে পারে নি | তারা নীরবে অন্যায়কারীকে সায় দিয়ে যাচ্ছে | এটা সত্যি মানব জাতির অধঃপতন ছাড়া আর কিছুই নয় |

বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলির উচিৎ আক্রান্ত দেশটিকে সহায়তা করা | যেমন তুরস্ক, পাকিস্তান, আজারবাইজান | অপরদিকে এশিয়ান শক্তিশালী দেশ  চীন এর  উচিত ইরানকে সহয়তা করা | বিশেষ করে যারা ইরান থেকে বেশি তৈল আমদানি করে থাকে যেমন চীন, ইন্ডিয়া, তুরস্ক, জাপান, কোরিয়া | তাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্যই তা করা দরকার | কারণ আমেরিকা যদি ইরানকে পরাজিত করে তাহলে সম্পূর্ণ তেলের নিয়ন্ত্রণ তারা নিয়ে নিবে | তখন তাদের পস্তানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না |

মার্কিন এই অবৈধ আক্রমণ সমগ্র বিশ্বের বিশেষ করে এশিয়ান দেশগুলিকে মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে | ডিজেলের দাম বেড়ে গেছে এবং কৃষি যন্ত্র পাতি চালানোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জ্বালানি ডিজেল সংকট কৃষি উৎপাদন কে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে |

এখনই সময় এসেছে আমেরিকান এই অবৈধ আগ্রাসনের প্রতিবাদ করা অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ করা | এশিয়ান প্রতিটি দেশের সরকার প্রধানদের উচিৎ এই ব্যাপারে কার্যকর প্রদক্ষেপ নেয়া | অন্যথায় এই মহাদেশের জনগণকে বিপৎজনক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে |

অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এশিয়ার বেশির ভাগ দেশের বিশেষ করে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল মজুদ ক্ষমতা  খুবই স্বল্প সময়ের জন্য | তাই অন্যান্য এশিয়ান দেশগুলির সাথে জোট বেঁধে আমেরিকাকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করার জন্য বাংলাদেশকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে |

আমেরিকা বলছে ইরান সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত আছে কিন্তু কেন তারা এটা করছে তার মূল কারণ না খুঁজে ভুল পথে হাটছে |যার খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো বিশ্ব কে | তাই পুরো বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে মানব জাতিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য | মূল কারণ খুঁজে তার সমাধানের জন্য

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফিলিস্তিন এ ইসরাইলের গণহত্যার অবসান কিভাবে সম্ভব ?

Root Cause of Middle East Conflict

ISO 27001 Certification in Bangladesh